🖊️ মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান আল-কাদেরী (মাঃ জিঃ আঃ)
উত্তর: ওহাবী-দেওবন্দীদের কতিপয় জঘন্য আকীদা ও কটূক্তিসমূহ নিম্নে প্রদত্ত হলো যা তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন বই হতে সংগৃহীত হয়েছে। কোন মুসলমান নর-নারী এসব ভ্রান্ত আক্বিদা ও কটুক্তি, বিশ্বাস ও সমর্থন করলে ঈমান ধ্বংস হয়ে যায়।
যেমন-
১) ভ্রান্ত আক্বিদা
আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারেন।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ১ম খন্ড, পৃ-৯, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা-
আল্লাহ্ তা'আলা মিথ্যা বলা ও ওয়াদা খেলাফী করা হতে পুতঃপবিত্র, আল্লাহর শানে মিথ্যা বলতে পারা মন্তব্য করা চরম বেয়াদবী ও কুফরী।
২) ভ্রান্ত আক্বিদা
"আল্লাহ্ আগে জানেন না বান্দা কি কাজ করবে। বান্দা যখন সম্পন্ন করে নেয় তখনই আল্লাহ্ তা জানতে পারেন।" [তাফসীরই বুলগাতুল হায়রান, পূ. ১৫৭- ৫৮, কৃত, মৌং হুসাইন আলী ওয়াভ চরান ওয়ালা দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা
মহান আল্লাহ সবকিছু আদিকাল হতে জানেন, খবর রাখেন, আল্লাহর জ্ঞানও স্থায়ী। উপরোক্ত বক্তব্য আল্লাহ তা'আলার শানে জঘন্যতম বেয়াদবী।
৩) ভ্রান্ত আক্বিদা.
"শয়তান ও মালাকুল মাওত-এর জ্ঞান হুযূর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে বেশী [বারাহীনে ক্বাতি'আহ্ পৃ. ৫১ কৃত খলিল আহাম্মদ আম্বেটভী দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা-
গোটা সৃষ্টিকূলের এমন কি নবী-ওলী ও ফেরেশতাদের জ্ঞান প্রিয় নবী রসূলে পাকের আল্লাহ্ প্রদত্ত জ্ঞানের তুলনায় সামান্যতম, উপরোক্ত মন্তব্য প্রিয় নবীর শানে জঘন্য ও মানহানিকর ও বেয়াদবী।
৪) ভ্রান্ত আক্বিদা
"আল্লাহর নবীর নিকট নিজের পরিণতি এবং দেয়ালের পেছনের জ্ঞানও নেই। [বারাহীন-ই ক্বাতি'আহ, পৃ.৫১, কৃত, খলীল আহমদ আম্বেটভী দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা-
রাসূল ﷺ কে মহান সৃষ্টি জগতে যা হয়েছে যা হবে সবকিছুর জ্ঞান দান করেছেন, এটা প্রিয়নবীর ﷺ'র প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ দয়া। মতে উপরোক্ত মন্তব্য কুফরি ও বেয়াদবী।
৫) ভ্রান্ত আক্বিদা.
"হুজুর আকরাম ﷺকে তেমনি জ্ঞান দান করেছেন, যেমন জ্ঞান জানোয়ার, পাগল এবং শিশুদের নিকটও রয়েছে। [হিফযুল ঈমান, পৃ.৭ . কৃত মৌং আশরাফ আলী দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা-
রাসূলে পাক ﷺকে আল্লাহ্ তা'আলা নিজ দয়ায় সৃষ্টির শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সব জ্ঞান দান করেছেন।। রাসূলে আকরাম ﷺ-এর জ্ঞানকে জানোয়ার, পাগল এবং শিশুদের সাথে তুলানা করা চরম বেয়াদবী ও কুফরী।
৬) ভ্রান্ত আক্বিদা .
নামাযে হুযুর ﷺ- এর প্রতি শুধু খেয়াল যাওয়া গরু-গাধার খেয়ালে ডুবে যাওয়া অপেক্ষাও মন্দতর।" [সেরাতে মুস্তাক্বীম, পৃ. ৮৬, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
নামায সহ সকল ইবাদত বন্দেগীতে প্রিয়নবীর স্মরণ ও অনুসরণ অপরিহার্য। রাসূলে পাকের অনুসরণ ও অনুকরণ ছাড়া কোন ইবাদত, ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না আর প্রিয়নবীর প্রতি খেয়াল ও স্মরণ আল্লাহর প্রতি খেয়াল ও স্মরণ হওয়ার নামান্তর। যেহেতু নবীর খেয়াল ও স্মরণ মূলত আল্লাহর খেয়াল ও স্মরণ, তাইতো হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামাযের মধ্যেই নবীজি ﷺ নামাযে আসছেন জেনে পেছনে চলে এসেছেন। যা সহীহ বুখারী শরীফের নামায অধ্যায়ের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং উপরোক্ত মন্তব্য প্রিয়নবীﷺর প্রতি চরম বেয়াদবী, যা বেঈমানীর নামান্তর।
৭) ভ্রান্ত আক্বিদা
রাহমাতুল্লিল আলামীন ( সমস্ত বিশ্বের জন্য রহমত) ﷺ-এর খাস উপাধি নয়। হুযুর আকরাম ﷺ ছাড়া অন্যান্য বুযুর্গকেও ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন' বলা যেতে পারে।" [ফাতাওয়া- ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, কৃত, মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
সঠিক আক্বিদা-
রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয়নবীﷺর খাসায়েস তথা বিশেষ উপাধিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এ উপাধি আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নবীﷺ ছাড়া অন্য কোন নবী ﷺ রাসূলকে প্রদান করেন নাই। [খাসায়েসুল কুবরা, কৃত. ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী রহ.]
৮) ভ্রান্ত আক্বিদা.
খাতামুন্নাবিয়্যীন অর্থ আখেরী বা শেষ নবী বুঝে নেওয়া সাধারণ লোকদের খেয়াল মাত্র। জ্ঞানী লোকদের মতে এর অর্থ বিশুদ্ধ নয়। হুযূর আকরামের যুগের পরও যদি কোন নবী পয়দা হয়, তবে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা ﷺ শেষ নবী হওয়ার ক্ষেত্রে কোন ক্ষতি হবে না।"
[তাহযীরুন্নাস, পৃ ৩ ও ২৫, কৃত, দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌং কাসেম নানুতবী ]
সঠিক আক্বিদা-
খাতামুন্নবীয়্যীন অর্থ আখেরী ও সর্বশেষ নবী। এটার উপর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তবঈ তাবেঈন সবাই একমত। উপরোক্ত মন্তব্য জঘন্যতম কুফরি।
৯) ভ্রান্ত আক্বিদা
হুযুর আকরাম ﷺ দেওবন্দের আলেমদের সাথে সম্পর্কের সুবাদে উর্দু শিখতে পেরেছেন। [ বারাহীনে কাতি'আহ, পৃ. ২৬, কৃত, মৌং খলীল আহমদ আম্বেটভী দেওবন্দী।
সঠিক আক্বিদা-
রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সকল সৃষ্টির জ্ঞান, ভাষাগত জ্ঞান আল্লাহ তা'আলা দান করেছেন, রাসূলে করিমেﷺর শিক্ষক একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা। সুতরাং উপরোক্ত মন্তব্য জঘন্যতম বেয়াদবী।
১০) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার প্রতি সম্মান শুধু বড় ভাইয়ের মতই করা চাই। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃ. ৫৮. কৃত, মৌ ইসমাইল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সকল নবী-রসূলের ইমান, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু ও হাবীব হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। উপরোক্ত মন্তব্য নবীজিﷺর প্রতি চরম মানহানি।
১১) ভ্রান্ত আক্বিদা
আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সমকক্ষ কোটি কোটি পয়দা করতে পারেন। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ১৬. কৃত, মৌঃ ইসমাঈল দেহলাভী ওহাবী ]
সঠিক আক্বিদা-
আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু রাসূলে করীম ﷺকে গোটা সৃষ্টিকুলে অতুলনীয়, বে-নজীর, বে-মেসাল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। ফলে উপরোক্ত মন্তব্য চরম বেয়াদবী ও বেঈমানী।
১২) ভ্রান্ত আক্বিদা
হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করে মাটিতে মিশে গেছেন। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৫৯, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ]
সঠিক আক্বিদা-
আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামসহ সকল নবী-রসূল ওফাত শরীফের পর স্বীয় কবর শরীফে ও রাওজা মোবারকে সশরীরে জীবিত, তাঁদের পবিত্র দেহ মোবারককে ভক্ষণ করা জমিনের উপর হারাম। সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্য চরম বেয়াদবী ও কোরআন-হাদীসকে অস্বীকার করার নামান্তর।
১৩) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবী-রসূল সবাই অকেজো। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ২৯,কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
নবী-রসূলগণ উম্মতের জন্য দিশারী, কাণ্ডারী ও ঈমানদাতা ও রহমত, তাঁদের শানে অকেজো বলা চরম গোমরাহী ও বেয়াদবী।
১৪) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবী প্রতিটি মিথ্যা থেকে পবিত্র ও মাসুম হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। [তাক্বভিয়াতুল আকাইদ, পৃ. ২৫. কৃত, মৌং, কাসেম নানুতুভী]
সঠিক আক্বিদা-
নবী-রসূল ﷺ গণ মিথ্যাসহ যাবতীয় গুনাহ হতে মাসুম ও পবিত্র। উপরোক্ত কথা তাঁদের শানে চরম বেয়াদবী।
১৫) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবীর প্রশংসা শুধু মানুষের মতই কর; বরং তা অপেক্ষাও সংক্ষিপ্ত। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৬১, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী]
সঠিক আক্বিদা-
নবীগণের প্রশংসা আল্লাহর প্রিয়নবী, প্রিয় বন্ধু, সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় তাঁরা আসীন হিসেবে স্থান দিতে হবে।
১৬) ভ্রান্ত আক্বিদা
বড় অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আর ছোট অর্থাৎ অন্যসব বান্দা বেখবর ও অজ্ঞ। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৩, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী ]
সঠিক আক্বিদা-
প্রিয়নবী সহ অন্যান্য নবী-রসূলগণের শানে বেখবর ও অজ্ঞ বলা কুফরি।
১৭) ভ্রান্ত আক্বিদা
বড় মাখলূক অর্থাৎ নবী, আর ছোট মাখলুক অর্থাৎ অন্যসব বান্দা আল্লাহর শান বা মর্যাদার সামনে চামার অপেক্ষাও নিকৃষ্ট।" [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ১৪, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
আমাদের প্রিয়নবী সহ সকল নবীﷺকে আল্লাহ্ তা'আলা সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবান করেছেন। তাঁদের শানে চামার অপেক্ষাও নিকৃষ্ট বলা নিঃসন্দেহে কুফরি।
১৮) ভ্রান্ত আক্বিদা.
নবীকে 'তাগূত' (শয়তান) বলা জায়েয। [তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়বান, পৃ. ৪৩, কৃত, মৌং হুসাইন আলী ওয়াঁভ চরান ওয়ালা]
সঠিক আক্বিদা-
এ ধরনের উক্তি যে করবে, সে ঈমান হতে খারিজ হয়ে যাবে, আল্লাহর নবীগণের শানে সামান্যতম কটূক্তি করলে ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে।
১৯) ভ্রান্ত আক্বিদা.
নবীর মর্যাদা উম্মতের মধ্যে গ্রামের চৌধুরী ও জমিদারের মত। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৬১, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী ]
সঠিক আক্বিদা- উপরোক্ত উক্তি নবীﷺর শানে মানহানিকর, নবীগণকে সৃষ্টির সেরা হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া উম্মতের উপর ফরয।
২০) ভ্রান্ত আক্বিদা
যার নাম মুহাম্মদ কিংবা আলী তিনি কোন কিছুর ইখতিয়ার রাখেন না। নবী ও ওলী কিছুই করতে পারেন না। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৪১, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
এ ধরনের মন্তব্য নবী ওলীর শানে চরম বেয়াদবী অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলা উম্মতের জন্য হালাল- হারাম করার ইখতিয়ার দিয়েছেন। আর নবীর ওলীর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা অসংখ্য বান্দাকে সৎপথে হেদায়ত দান করেছেন।
২১) ভ্রান্ত আক্বিদা
উম্মত বাহ্যিকভাবে আমলের মধ্যে নবী থেকেও বেড়ে যায়। [তাহযীরুন্নাস, পৃ. ৫. কৃত মৌং কাসেম নানুতভী]
সঠিক আক্বিদা-
এ ধরনের মন্তব্য হলো ইবলিশ শয়তানের, প্রকৃত ঈমানদারের নয় বরং সাধারণ উম্মততো দূরের কথা, কোন ওলী, গাউস, আবদাল, শহীদ ও কোন নবীর মর্যাদায় পৌঁছা কখনো সম্ভবপর নয়।
২২) ভ্রান্ত আক্বিদা
দেওবন্দী মোল্লা হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে পুলসেরাত হতে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। [ তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান, পৃ. ৮, মৌং হুসাইন আলী]
সঠিক আক্বিদা- আমাদের নবীসহ অন্যান্য নবী- রসূলগণ ক্বিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করে আযাব-গযব হতে পাপি তাপি উম্মতকে রক্ষা করবেন। উপরোক্ত বক্তব্য চরম বেয়াদবী।
২৩) ভ্রান্ত আক্বিদা
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ আশরাফ আলী রসূলুল্লাহ্ আর আল্লাহুম্মা সল্লি আলা সায়্যিদিনা ওয়া নবীয়্যিনা আশরাফ আলী' বলার মধ্যে সান্ত্বনা রয়েছে, কোন ক্ষতি নেই। [রিসালা-ই ইমদাদ, পৃ. ৩৫, সফর-১৩৩৬ হিজরী সংখ্যা]
সঠিক আক্বিদা- উপরোক্ত বাক্য কুফরি কালাম ।
২৪) ভ্রান্ত আক্বিদা
মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করা তেমনি, যেমন হিন্দুরা তাদের কানাইয়্যার জন্মদিন পালন করে। [বারাহীন-ই কাতি'আহ্, পৃ. ১৪৮, ফাতাওয়া-ই মীলাদ শরীফ, পৃ.-৮]
সঠিক আক্বিদা- মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দুরুদ সালাম, কোরআন খানি, যিকর আযকার, তাবাররুক বিতরণ ও দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদযাপন করা পূণ্যময়, নেক আমল, মুস্তাহাব ও সাওয়াবজনক। সুতরাং উপরোক্ত বক্তব্য চরম গোমরাহী ও বেয়াদবী।
২৫) ভ্রান্ত আক্বিদা
রসূল চাইলে কিছুই হয় না। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৫৬, কৃত, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা- রাসূলﷺ চাইলে আল্লাহ্ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে অনেক কিছু হয় ও হয়েছে। যেমন- প্রিয়নবীর ইশারায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছে, ডুবন্ত সূর্য পুনঃউদিত হয়েছে। সুতরাং উক্ত কথা চরম বেয়াদবী ও বেঈমানের লক্ষণ।
২৬) ভ্রান্ত আক্বিদা
আল্লাহর সামনে সমস্ত নবী ও ওলী একটা নাপাক ফোটা অপেক্ষাও নগণ্য।' [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৫৬, কৃত, মৌঃ ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা- আল্লাহর দরবারে নবী-ওলীর মর্যাদা হলো সকল সৃষ্টির উপরে সুতরাং উপরোক্ত বাক্য তাঁদের শানে বলা চরম বেয়াদবী।
২৭) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবীকে নিজের ভাই বলা দুরস্ত। [বারাহীন-ই কাতি'আহ্, পৃ. ৩. কৃত, মৌং খলীল আহমদ আম্বেটভী]
সঠিক আক্বিদা- নবীগণের শানে ভাই ও সাধারণ শব্দ ব্যবহার করা মানহানিকর ও কুফরি বাক্য বরং প্রিয়নবীকে সম্বোধন করতে হবে ইয়া নাবিয়াল্লাহ্, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ বলে, অতি সন্মানে সাথে। এটাই পবিত্র কুরআনের শিক্ষা।
২৮) ভ্রান্ত আক্বিদা
নবী ও ওলীকে আল্লাহর সৃষ্টি ও বান্দা জেনে উকিল এবং সুপারিশকারী মনে করে তাঁদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বানকারী ও নযর-নিয়াযকারী মুসলমান আর কাফির আবু জাহেল-শির্কের মধ্যে সমান। [তাক্বভিয়াতুল ঈমান, পৃ. ৭-২৭, মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী]
সঠিক আক্বিদা-
নবী-ওলী অবশ্যই গুনাহগার উম্মতের জন্য আল্লাহর নিকট উকিল ও সুপারিশকারী। সুতরাং তাঁদের থেকে সাহায্য চাওয়া তাবরানী শরীফের বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এটাকে শিরক বলা হাদীস শরীফকে অস্বীকার করা যা অবশ্যই গোমরাহী।
২৯) ভ্রান্ত আক্বিদা
দরুদ-ই তাজ অপছন্দনীয় এবং পাঠ করা নিষেধ।
[ফাযাইলে দরুদ শরীফ, পৃ. ৯২ ফাযাইলে আমাল তথা তাবলীগী নেসাব থেকে ]
সঠিক আক্বিদা-
দরুদে তাজ প্রকৃত ঈমানদার ও বুযুর্গানে দ্বীনের নিকট অনেক পছন্দনীয় আমল এবং তা পাঠ করা সাওয়াব।
৩০) ভ্রান্ত আক্বিদা
মিলাদ শরীফ, মি'রাজ শরীফ, ওরস শরীফ, খতম শরীফ, চেহলামের ফাতিহাখানি এবং ঈসালে সাওয়ার সবই নাজায়েয, ভুল প্রথা, বিদআত এবং কাফির ও হিন্দুদের প্রথা। [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খন্ড, পৃ.১৫০, ৩য় খন্ড, পৃ. ৯৩-৯৪ কৃত প্রাগুক্ত]
সঠিক আক্বিদা- মিলাদ শরীফ, মি'রাজ শরীফ, ওরস শরীফ, খতম শরীফ, চেহলামের ফাতিহাখানি এবং ঈসালে সাওয়াব সবই জায়েয, ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষে মাহফিল আয়োজন উত্তম প্রথা ও সুন্নাতে হাসানাহ্। কুরআন-সুন্নাহ সম্মত নেক আমল ও মুস্তাহাব। এগুলোকে নাজায়েয, ভুল প্রথা, বিদআত ও কাফির-হিন্দুদের প্রথা বলা মুর্খতা ও কুরআন-হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়। এ সব ভ্রান্ত আকিদার খন্ডন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিভিন্ন প্রামাণ্য পুস্তকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। [জাআল হক, কৃত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী, ফতোয়ায়ে রেজভিয়া, কৃত ইমাম আহমদ রেযা রহ. ও আমার রচিত যুগজিজ্ঞাসা]



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন