প্রশ্নঃ মৃত স্ত্রীকে স্বামী এবং মৃত স্বামীকে স্ত্রী গোসল দিতে পারবে কিনা?
✍🏽 মুফতি সৈয়দ অছিউর রহমান আল কাদেরী মা:জি:আ:
উত্তর: স্বামী-স্ত্রীর কেউ মারা গেলে দু'জনের হুকুম ভিন্ন।
স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর চেহারা দেখতে পারবে এমনকি গোসল দেয়ার মতো কোন পুরুষ পাওয়া না গেলে গোসলও দিতে পারবে। কেননা, স্বামীর মারা যাওয়ার পরও আরো চার মাস দশ দিন ঐ স্ত্রীর ইদ্দত পালন করতে হয়। আর গর্ভবতী হলে প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হয়
অর্থাৎ ততদিন স্ত্রী স্বামীর আক্কদে থাকে- বিধায় স্ত্রী স্বামীকে দেখতে পারবে এতে কোন গুনাহ নেই। কিন্তু স্ত্রী মারা যাওয়ার পর পরই স্বামী-স্ত্রীর আকদ ছিন্ন হয়ে যায় বিধায় স্বামীর জন্য ঐ মহিলা তথা মৃত স্ত্রীকে গোসল দেয়া বৈধ নয়। যেমন দুররুল মুখতার গ্রন্থে জানাযা পর্বে উল্লেখ আছে-
يمنع زوجها من غسلها ومسها لا من النظر اليها على الصح-الخ-
অর্থাৎ বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে স্বামী তার মৃত স্ত্রীকে গোসল দেয়া এবং স্পর্শ করা জায়েয নেই তবে চেহারা দেখতে নিষেধ নেই বরং তা জায়েয। [দুররুল মুখতার]
জামেউর রমুজ নামক কিতাবের জানাযা পর্বে উল্লেখ রয়েছে-
لا يغسل زوجته تغسل زوجها إلا اذا ارنقع الزوجية بوجه هكذا في البحر الرائق
অর্থাৎ পুরুষের জন্য মৃত স্ত্রীকে গোসল দেয়া জায়েয নেই। তবে স্ত্রী নিজ মৃত স্বামীকে গোসল দেয়া জায়েয। অবশ্য যদি যে কোন প্রকারে ঐ স্ত্রীর সাথে বিবাহ্ বন্ধন ছিন্ন হয়ে থাকে তখন সে স্ত্রী স্বামীকে গোসল দিতে পারবে না। 'বাহরুর রায়েক' নামক কিতাবেও এরূপ বর্ণনা রয়েছে।
আজকাল আমাদের সমাজে কিছু কুসংস্কার পরিলক্ষিত হয় স্বামী বিদেশে প্রবাসী, দেশে স্ত্রী ইন্তেকাল করেছে খবর পেয়ে দেশে ছুটে এসেছে কিন্তু স্ত্রীকে দেখতে পারবে না, স্ত্রীর জানাযা (লাশ) কাঁধে নিতে পারবে না, কবরে নামতে পারবে না, এসব কথা ভিত্তিহীন, কুসংস্কার ও ভুল ধারণা মাত্র।
[বাহরুর রায়েক: কৃত- ইমাম ইবনে নুজাইম হানাফী (রাহ.) ও দুররুল মুখতার-জানাযা অধ্যায়: কৃত- ইমাম আলাউদ্দীন হাস্কপী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি]
পোষ্টটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন