রামগড়ে মুহাদ্দিস আব্দুল হামিদ শাহ্ (রহ:) - আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা

ঘোষণা

নোটিশ আজ বুধবার বিকাল ৩.০০ টায় অফিস কক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকলেকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ।

দর্শক সংখ্যা

বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

রামগড়ে মুহাদ্দিস আব্দুল হামিদ শাহ্ (রহ:)

মুহাদ্দিস আব্দুল হামিদ শাহ্ রহ 'র মাজার

 ১৯ শাওয়াল জামেয়ার সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস, আল্লামা মুফতি আব্দুল হামিদ (রহ.)'র ওফাত দিবস। যাঁর দেহ দীর্ঘ তিনবছর পরও কবরে ছিল অক্ষত!


#আল্লামা আব্দুল হামিদ (রহঃ) ১৯১৮ সনে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার অন্তর্গত গাজীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাল্যকালে হতদারিদ্র পরিবারে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব দেখে ভারতের ত্রিপুরার উদয়পুর গ্রামে গিয়ে একটি মাদরাসায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর আবারও দেশে ফিরে রামপুর মাতলাউল উলুম হতে আলিম, রামপুর আলিয়া হতে যুগশ্রেষ্ট মুহাদ্দিস, মুফাসসির কেরামগণের সান্নিধ্যে থেকে ফাজিল ও কামিল সমাপ্ত করেন। ১৯৫৪ সালে বোম্বাই হয়ে পানির জাহাজে করে পবিত্র ভূমি মক্কায় গমন করে সেখানে চার বছর অবস্থান করেন এবং সেখানে জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে একটি হাসপাতালে চাকরি করেন। আর বিকালে হেরেম শরীফে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কোরআন হাদিসের দরস দিতেন। মক্কায় হাসপাতালের চাকরিতে যখন টাকার প্রতি মোহ সৃষ্টি হয় তখন স্বীয় মুর্শিদ খতিবে আজম শাহ ওজিহুদ্দিন (রহঃ) স্বপ্ন যোগে তাঁকে আদেশ দেন, "আব্দুল হামিদ! তুমি যে উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম হাসিল করেছ, চাকরিতে থাকলে তা ব্যাহত হবে।" এরপরই তিনি বোম্বাই, রিয়াছতে রামপুর হয়ে আগারতলার উদয়পুর এসে একটি মাদরাসায় ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৮ সাল হতে চাঁদপুর শাহতলী আলিয়া মাদরাসায় প্রায় ১২ বছর প্রধান মুহাদ্দিসের পদে ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালিন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ মুফতি মোজাফফর আহমদ সাহেবের আমন্ত্রনে জামেয়ায় প্রধান মুহাদ্দিসের পদে আসিন হন। ১৯৯২ সালে সরকারি ভাবে অবসর হলে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ২০০২ পর্যন্ত শায়খুল হাদিসের পদে নিযুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি নিজ আবাসস্থল রামগড় গর্জনতলী গ্রামে হামেদিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।





#তিন বছর পর কবরে অক্ষত লাশ মোবারক!

২০০৮ সালের ৪ জুলাই শুক্রবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টিপাতেরর দরুন মুহাদ্দিস আব্দুল হামিদ (রহঃ)'র কবরের মাটি পায়ের দিকে তলিয়ে যায়। তাঁর মাদরাসার ছাত্ররা প্রতিদিনের মতো মসজিদে ফজরের নামায শেষে যিয়ারত করতে হাজির হলে পায়ের দিকে মাটি সরে পড়া ও তলিয়ে যাওয়ার দিকটা কৌতুহলী হয়ে গভীরভাবে লক্ষ করলে ছাটায়ের ফাঁকে হুজুরের লাশ মোবারক সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। তখন উপস্থিত উৎসুকী জনতারা প্রত্যক্ষ করেন, হুজুরের লাশ মোবারক আপাদমস্তক অক্ষত, কাপনের কাপড়ও অবিকৃত, চেহেরা আলোকময় ও দাড়িগুলো কালো মনে হলো যেন সবেমাত্র দাফন করা হয়েছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক টেলিফোনে জামেয়ার সম্মানিত শিক্ষকদের জানানো হয় এবং তাদের পরামর্শক্রমে ছাঁটাই পরিবর্তন করে পুনঃরায় কবর পূর্বাবস্থায় ঢেকে দেওয়া হয়। 

(বিষয় ভিত্তিক কারামতে আউলিয়া/পৃঃ৬৬)

#ওফাতঃ দীর্ঘ দুই বছর বার্ধক্য জনিত রোগে অসুস্থতা থাকার পর ১৯ শাওয়াল ১৪২৬ হিজরি মোতাবেক ২০০৫ সালের ২১ নভেম্বর সোমবার এই মহান মনীষী পরলোক গমন করেন। হাজার হাজার ভক্ত-অনুরক্ত ও ছাত্রদের উপস্থিতিতে জানাযা শেষে হুজুরকে নিজ প্রতিষ্ঠিত রামগড় হামেদিয়া মাদরাসার পাশে দাফন করা হয়।

#সূত্রঃ আল্লামা আব্দুল হামিদ (রহঃ)'র স্মারক গ্রন্থ)


#গত ৯ই মে ২০২৩ইং হুজুরের ১৮ তম বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত খাগড়াছড়ি জেলা নেতৃবৃন্দ ও খাগড়াছড়ির আপামর সুন্নী মুসলমান উপস্থিত ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন